২০১০ সালে বাংলাদেশের প্রভূত উন্নতি ও সমৃদ্ধি হবে বলে আমি প্রত্যাশা করছি। কৃষিক্ষেত্রে সরকারের কর্মোদ্যম আরও জোরালো হবে এবং নতুন প্রযুক্তি প্রয়োগ করার ফলে কৃষি উত্পাদনে প্রবৃদ্ধির হার শতকরা ৪ ভাগ ছাড়িয়ে যাওয়ার যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে। বর্তমান সরকার কৃষি খাতকে অগ্রাধিকার দিলে এবং পর্যাপ্ত বিনিয়োগের ফলেই এটি সম্ভব হবে।
এ বছর স্বাস্থ্যক্ষেত্রে শিশুমৃত্যুর হার আরও কমবে। এ ছাড়া বিভিন্ন কর্মসূচি নেওয়ায় নবজাতকের বর্তমান মৃত্যুহার উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পাবে। অন্যদিকে মাতৃমৃত্যু কমানোর লক্ষ্যে কয়েকটি কর্মসূচি হাতে নেওয়ায় ২০১০ সাল থেকে এই হার তাত্পর্যপূর্ণভাবে হ্রাস পাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে।
বর্তমান সরকার ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ে তোলার প্রত্যয় ও অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছে। ফলে তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার বৃদ্ধি পাবে। ওয়াইম্যাক্স প্রযুক্তি চালু হলে বাংলাদেশের আনাচকানাচে ইন্টারনেট ব্যবহারের ছোট ছোট বিপণি তৈরি হবে এবং দেশজুড়ে এই প্রযুক্তি ছড়িয়ে পড়বে। ব্যাংকিং সেক্টরে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে টাকা পাঠানো শুরু হবে। সামগ্রিকভাবে তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার এই সেক্টরের যোগ্যতা ও দক্ষতা বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে। ফলে সেবাগ্রহীতারা বিশেষভাবে উপকৃত হবেন।
আমাদের দেশে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষাক্ষেত্রে তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার নেই বললেই চলে। এ ক্ষেত্রে ন্যূনতম প্রশিক্ষণ কার্যক্রম শুরু করার উদ্যোগ এখনো নেওয়া হয়নি। সুতরাং ২০১০ সালে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোয় শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়নের সম্ভাবনা দেখছি না।
অবশ্য বিভিন্ন সরকারি দপ্তর ও মন্ত্রণালয়ে তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহারের ফলে গ্রাহকসেবা ক্রমাগত উন্নত হচ্ছে। জমিসংক্রান্ত কাজে, যেমন: ভূমির মালিকানা, বিক্রি ও রেজিস্ট্রেশন প্রভৃতি ক্ষেত্রে এই প্রযুক্তি ব্যবহারের সূচনা হয়েছে। এর ফলে ভূমিসংক্রান্ত বিরোধ নিষ্পত্তির কাজে দেওয়ানি আদালতের ওপর থাকা চাপ কমবে।
নতুন বছরে বৈদেশিক মুদ্রার আয় ও সঞ্চয় বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করছি। ২০১০ সালে বিদেশ থেকে বাংলাদেশি অভিবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্সের পরিমাণ ন্যূনতম ১০ শতাংশ বৃদ্ধি পাবে। আমাদের মুদ্রার রিজার্ভের পরিমাণ ১১ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত হবে বলে আশা করা যায়। অন্যদিকে টেলিযোগাযোগ, ওষুধ শিল্প ও খনিজ সম্পদ আহরণ খাতে বিদেশি বিনিয়োগ বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।
২০১০ সালে দেশব্যাপী সৌরশক্তির ব্যবহার বাড়বে। তবে বিদ্যুত্ খাতে চাহিদা ও সরবরাহের মধ্যে ফারাক সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। রপ্তানি খাতে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধির পরিমাণ কমে যেতে পারে। তবে মূল্যবৃদ্ধির হার সহনীয় পর্যায়েই থাকবে বলে আশা করছি।
ফজলে হাসান আবেদ: প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি, ব্র্যাক
প্রথম আলো থেকে নেয়া
No comments:
Post a Comment